সুনামগঞ্জ , বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ , ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা: সুনামগঞ্জের ডিসি ইলিয়াস মিয়া পুত্রের মুক্তি দাবিতে পিতার সংবাদ সম্মেলন শ্রেণিকক্ষে তালা দিলো বিএনপি নেতার ছেলে ডিলারের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কৃষকদলের আবেদন বাঁধের কাজে বিলম্বে উদ্বেগ, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামালগঞ্জে রাঈদ মাহমুদ স্মৃতি মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত গ্রিনল্যান্ড আমাদের লাগবেই : ট্রাম্প সিলেট নয়, বগুড়া থেকে শুরু হতে পারে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রম ভূমিকম্পে কাঁপলো সিলেট প্রার্থীদের হলফনামায় দুদকের নজর রয়েছে : দুদক চেয়ারম্যান নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাতকে মানববন্ধন শান্তিগঞ্জে উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ লাফার্জ হোলসিম কোম্পানির শব্দদূষণ কনভেয়ার বেল্টের শব্দে অতিষ্ঠ ১০ গ্রামের মানুষ লঞ্চঘাটে দখলমুক্ত সরকারি ভূমি পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জামালগঞ্জে ডেভিল হান্ট (ফেইজ-২) অভিযানে গ্রেফতার ২ শাল্লায় ১২৪টি প্রকল্পে কোনো অগ্রগতি নেই সরকারি সার বিক্রি হচ্ছে কালোবাজারে নিয়ম রক্ষার উদ্বোধন, ২০ দিনেও শুরু হয়নি কাজ শান্তিগঞ্জে ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’ উপজেলা কমিটির অভিষেক সাংবাদিকতায় চার দশক পূর্তিতে আকরাম উদ্দিনকে সংবর্ধনা

হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে বিলম্ব কাম্য নয়

  • আপলোড সময় : ০৫-০১-২০২৬ ০৯:৪৮:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৫-০১-২০২৬ ০৯:৪৮:৩৮ পূর্বাহ্ন
হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে বিলম্ব কাম্য নয়
হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ফসলরক্ষা বাঁধ। প্রতি বছর এই বাঁধের উপর নির্ভর করেই লাখো কৃষক বোরো চাষে বিনিয়োগ করেন। অথচ জামালগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে যে শৈথিল্য ও অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে, তা গভীর উদ্বেগের। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সরেজমিন পরিদর্শনে জানা গেছে, কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরুর কথা থাকলেও ১৯ দিন পার হয়ে যাওয়ার পরও হালি, শনি ও মহালিয়া হাওরের ২৭টি পিআইসিতে কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এমনকি অনেক প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড পর্যন্ত টাঙানো হয়নি। উদ্বোধনের পরও কাজ বন্ধ থাকা কিংবা শুরুই না হওয়া প্রকল্পগুলো কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতার নয়, বরং সম্ভাব্য অনিয়ম ও অবহেলারও ইঙ্গিত দেয়। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো- বিগত বছরের তুলনায় অনেক বাঁধ প্রায় অক্ষত থাকা সত্ত্বেও এবছর বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে- এই বাড়তি বরাদ্দের যৌক্তিকতা কোথায়? মাঠপর্যায়ে কাজ না থাকলেও বরাদ্দ বাড়ানো হলে তা সরকারি অর্থ অপচয়ের শঙ্কা সৃষ্টি করে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই কাজ শুরু হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো- হাওরের সময়সূচি প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধের মতো। একদিনের বিলম্বও হাওরাঞ্চলে বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। আগাম বন্যা কিংবা পাহাড়ি ঢলে বাঁধ দুর্বল থাকলে পুরো বোরো ফসল এক মুহূর্তে তলিয়ে যেতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের সে কঠিন বাস্তবতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ যে প্রশ্ন তুলেছেন - তা কেবল একটি সংগঠনের দাবি নয়, এটি কৃষক সমাজের যৌক্তিক আশঙ্কার প্রতিফলন। পিআইসিগুলোর কার্যক্রম তদারকি, বরাদ্দের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কাজের গুণগত মান রক্ষা করা - এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। অতএব, এখনই প্রয়োজন জরুরি ভিত্তিতে পাউবো ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ। প্রতিটি পিআইসির কাজ দ্রুত শুরু করা, প্রকৃত প্রয়োজনের বাইরে বরাদ্দ পর্যালোচনা করা এবং দায়বদ্ধতার কাঠামো শক্তিশালী করা না গেলে হাওরের কৃষি, কৃষক ও খাদ্যনিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। হাওর রক্ষা মানেই দেশের খাদ্য ভা-ার রক্ষা। এই সত্য উপলব্ধি করে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করাই সময়ের দাবি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স